ফ্ল্যাশ ফিকশন
শুভদীপ মৈত্র
অরণ্যের দিন ও রাত
ট্রি-টপ হাউজ বা অবজারভেটরি যাই বলা হক না কেন পর্যবেক্ষণ বড় দ্রুত বদলে যায় অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে – নিচ থেকে যাকে একরকম দেখায় সেই আবার উপর থেকে আরেকরকম, এই অরণ্যের দিন রাত আর তার সঙ্গে উপস্থিত যুবকেরা তাইই। যেমন এই যে মেয়েটি – সরু হিলহিলে কোমর আর ফ্লোরাল শার্ট-এর উপর দিয়ে সামান্য ক্লিভেজে বুফোঁ ভেঙে পড়ে বেশ কিছু চুল চিরকালের ককেট্রিতে আটকে – তাকে সেই যুবকেরা কখনওই উপর থেকে দেখছে না। একই শরীরী বিভঙ্গ পালটে গেল গায়ের রঙের সঙ্গে, তখন সেই অপর দেশীয় শরীর অনায়াসে ল্যাংটো খেলোয়াড়ি শরীরের নিচে ছটফট কিন্তু শিৎকারশীলা নয় কারণ তখনই বাকি তিন নায়কের যে কেউ দেখে ঠাট্টা বিরক্তি মজা এমনকি একসঙ্গে ভোগের ইচ্ছেও জানাতে পারত।
বেঁটে বেঁটে পাহাড় ঘেরা অ্যারেনায় যুগপৎ পিকনিক ও সার্কাসের মতো মুখভঙ্গি চালাচ্ছিল নায়কেরা ও নায়িকা, যদি এভাবেই দেখি যে নির্বাক সিনেমা, যদিও প্রেক্ষাপট স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন-এর চিপ প্রিন্ট। লকেট ও আঙুলের সঞ্চারণ বুঝছিল, না মাপছিল, এবং তার আদিম ও আরো আন্ধারিয়া বোনের মতোই ঘামছিল – ডান চোখ সুচারু চুলের দিকে যাচ্ছিল, বাম বুকটা সঙ্গে তার তীক্ষ্ণ বোঁটা জেগে উঠেছিল খেলোয়াড়ি পেশীর সীমানায়, একটা হাসি আর গালের টোল ন্যাকাবোকা সাজা এভরি প্যাক নিডস জোকার যে জনান্তিকে বলে – তখনও প্রার্থনা সংগীতের শুভ্রতা শেষ হয়নি, সেইটুকু সময়ে নির্বাচন করে নিতে হল নায়িকাকে। বেচারি, সবচেয়ে প্রিডেসটিন্ড কারণ ওই যে পর্যবেক্ষণের নিয়মটা সেও মানে, কাজেই সুচারু চুল ও কলচর্ডের সঙ্গেই দেখা যায় তাকে, যদিও তার ভিতরে ততক্ষণে মিশে গেছে আরো তিন পুরুষের প্রতি সমান আনুগত্য যা বারবার তার যৌন-কল্পনায় ফিরে আসবে। বারবার। আর তার আদিম বোনটির কী হল? ধ্যুস তার কথা অ্যানথ্রপলজির রিসার্চ পেপারে লেখা যায়, গল্পে ওসব লেখে নাকি!
উপন্যাসের শুরু
রোহিণী প্রায় ডুবন্ত অবস্থা থেকে বাথ টব ছেড়ে উঠেছিল যখন, তখনই লাল তাকে দেখে। বেয়াল্লিশ বছরের ভরাট শরীরের রোহিণীকে সে কেন কীভাবে ওই অবস্থায় পেয়েছিল, নেহাত পনেরো ষোলোর তরুণ এক ছেলে তা অপ্রকাশ্য থাক, বা একটা মিথ। ভিজে চোখে যে দরজার পাল্লা খোলা হাত ও মুখ রোহিণী দেখে ও ঠোঁট ঈষৎ পাউট, শরীর ঝুঁকে পড়ে সামনে এবং বুঝতে পেরেই মৃতবৎ আধো উচ্চারণ গলাতেই আটকে থাকে এবং হাতের ঝটিকায় আঙুলগুলোর মাঝে তোয়ালের শরীর থাকলেও তা স্থাণু ও থরথর – লাল দেখেছিল, কিন্তু সে ট্রিগার টিপতে জানত না।
রোহিণী অপেক্ষা করছিল বঙ্কিমের জন্য, আমলার মতো যে জানে তার শাসিত অঞ্চলের সীমারেখা। ফলে অনবরত বঙ্কিম খেলাটা বদলাতে থাকে মনে মনে, কখনও ট্রিগার সে লালের হাতে তুলে দেয় বা কখনো রোহিণীর সিক্ত শরীর। অথচ কখনোই সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তার ক্ষমতার গণ্ডী কতটুকু। এর মধ্যে লাল বড় হয়, রোহিণী আরো বয়স্ক হতে থাকে। সময়ের নিয়ম খাটে সবারই উপরে। কিন্তু বঙ্কিমের কল্পনার ভিতর এখনো সেই পর্দাটানা দুপুর এখনো লাল আর রোহিণী, কেউ একটা খুন হয়ে চলে প্রতিটা সফল বা ব্যর্থ সঙ্গম শেষে।