দেবা
রৌনিক রায়
ছেলেটির নামেই এই গল্পের নাম - কোন ছেলেটি? যে এখন এই মুহূর্তে ঘরের মধ্যে খাটের ওপর থেকে নিজের দুই ঠ্যাং ঝুলিয়ে বসে আছে, তার - তার ডাকনাম দেবা, ভাল নাম জানার কোনো দরকার নেই, এমনিতেও কুকুরের মত মরতে চলা খানকির ছেলেদের নাম জানার কোনো দরকার হয় না সচরাচর; ঘরটা আধো অন্ধকার, বাইরে খোলা জানলা থেকে বিকেলের মরে আসা আলো কিছুটা পড়েছে সেই ঘরের মধ্যে, সেই ঘরের মেঝেতে খাটের ওপর বসে থাকা সেই ছেলেটার মানে দেবার ছায়া পড়েছে, বাইরে থেকে কিছু মশাও আসছে সমানে ঘরের ভেতরে, তার কানের কাছে নিরন্তর গান গাইছে, কিন্তু সে বসে আছে চুপটি করে, একটুও নড়ছেও অবধি না – যেন একটা জ্যান্ত লাশ, তাকিয়ে আছে শুধু মেঝের ওপর নিজের ছায়ার দিকে, মাঝে মাঝে নজরটা একটু তুলে তাকাচ্ছে সেই ঘরেরই এক কোণে রাখা একটি শো--কেসের দিকে, ভাঙা সেই শো কেসের কাঁচ, ভেতরে নানা জায়গায় মাকড়জীবিদের ঝুলঝাল আর কৃকলাসেদের বর্জ্য, তার মধ্যে কিছু পুরোনো মূর্তি আর আরও কিছু প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় জিনিস ঠেসে ঢুকানো, তার একটা তাকে আবার একটা মরা আরশোলা উল্টে আছে জিনিসপত্রের পাশেই, দেবা সমানে ভাবছে, যে সে বাড়ির সবার নজর এড়িয়ে বাইরে বেরোতে পারবে তো? কিন্তু তার জন্য তো তার একটা উপযুক্ত সময় আর সুযোগ চাই, হঠাৎ সে ভাবল, যে এখনই তো সবচেয়ে ভাল সময়, তার মা এখনও রান্নাঘরটা মুছছে, তার বাবা এখনও ফেরেনি কাজ থেকে, তাহলে তো এখনই সে চাইলে টুক করে দরজা খুলে বাইরে গিয়ে লোহার ফটকের ছিটকিনি আস্তে করে খুলে বাড়ির চৌহদ্দির বাইরে বেরিয়ে পড়তে পারে; যা ভাবা তাই কাজ, সে টুক করে খালি পায়ে চটি না গলিয়েই পা টিপে টিপে অতি সন্তর্পণে বাইরে যাওয়ার যে দরজার ছিটকিনি সেটা প্রথমে খুলে বাইরে বেরিয়ে আলতো করে দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে বারান্দায় গেল, সেখানে একটা বেসিনে যেখানে সে একটু আগে খাবার খেয়ে মুখ কুলি করে জল ফেলেছিল - সেখানে সেই বেসিনে একটা জায়গায় একটা খাবারের টুকরোকে ঘিরে দেওয়ালের এক ফোকর থেকে সার বেঁধে বেরোনো কিছু পিঁপড়ে জড়ো হয়েছে, তারা খাচ্ছে তারই মুখের থেকে ফেলা একটা ভাতের কণাকে, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে দেখল সে , তার পর সেখান থেকে সরে বেরোতে গিয়ে খাবার টেবিলের কাছে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে আবার কাঁচের টেবিলের মলিন গায়ে নিজের নোংরা প্রতিবিম্বটা দেখল একটু থেমে – নিজের ছবি নিজেই দেখে কেন কে জানে, কেমন যেন একটা মায়া হল তার নিজেরই উপর; তার পর সেখানে আর দাঁড়িয়ে না থেকে সে গেল বাইরে লোহার ফটকের কাছে, তার পরে লোহার ফটকের ছিটকিনি আস্তে করে খুলে ফটকটা খুলতে গেল, খুবই মৃদু একটা ‘ক্যাঁচ!’ করে আওয়াজ হল মরচে ধরা লোহার - প্রায় না শুনতে পাওয়ার মতই, ফটকটা একটু ফাঁক করে সেই ফাঁকের মধ্যে দিয়েই গলে বেরিয়ে পালিয়ে গেল সে, সে জানে কোথায় যাবে - হয় যাবে বড় রাস্তায় কোনো বড় গাড়ির সামনে, আর নাহলে কাছেই একটা গভীর পুকুর মত আছে, সেখানেই যাবে। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়তে লাগল সে, দৌড়তে দৌড়তে মাঝে শুনতে পেল, কোথায় যেন একটা টিকটিকি ডেকে উঠল ঠিক ঠিক করে, সে একটানা না থেমে দৌড়ে গেল নিজের নির্ধারিত গন্তব্য স্থলের দিকে।
ছেলেটি টিভির পোকা ছিল, খুব টিভি দেখত, মায়ের বাড়িতে নানা রকম কাজ – মূলত রান্নাঘরে রান্না থেকে শুরু করে নিয়ে এঁটোকাঁটা পরিষ্কার বা স্নানঘরে ছেলে আর বরের নোংরা ময়লা কাপড় অন্তর্বাস সব কাঁচা - এইসব একা হাতেই করে যাচ্ছে মানুষটা, কাজের লোক রাখার ক্ষমতা এই মুহূর্তে তাদের নেই বলে, আর বাবা ব্যস্ত বাইরে টাকা কামানোর কাজে আর সাথে সেই কাজের ফাঁকে নিজের বাঁধা এক মেয়েছেলের সঙ্গে গোপনে লুকিয়ে কোথাও গিয়ে সময় কাটাতে মাঝে মধ্যে, অতএব বাড়িতে সে একা, যদিও তারা যৌথ পরিবার যা আজকাল সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না, কিন্তু তার কাকা কাকি আর তাদের বাচ্চা ছেলে সবাই মিলে থাকে নিজেদের মত দোতলায় ওপরে, আর তাদের মানে দেবাদের সংসার নীচে একতলায়, অর্থাৎ যৌথ পরিবারে থেকেও একক পরিবারের ছাঁচের মধ্যেই সে বড় হচ্ছিল বলা যায়, সবাই নিজেদের নিজেদের কাজে ব্যস্ত, যা হয় আরকি, ছেলের দিকে নজর দেবার একেবারেই সময় নেই বলা চলে – শুধু তাকে তার পড়াশোনাটুকু দেখিয়ে দেওয়া, “পড় রে, লেখ রে!”, মারধর, গালিগালাজ – বাকি সময় রান্নাবান্না আর সংসারের অন্যান্য নানা টুকটাক কাজে চলে যায় দেবার বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকলে – আর তার পর খাওয়াদাওয়া করে একটু টিভি দেখে যে যার নিজের মত শুয়ে ঘুমিয়ে পড়া - এরই নাম শালার সংসার, অতএব দেবার মত দুরন্ত দস্যি ছেলেকে পড়াশোনার সময়টুকু বাদে বাদবাকি সময়টুকু জুড়ে টিভির সামনে বসিয়ে রেখে দিলেই হল যাতে অন্তত চুপচাপ বাধ্য ছেলে হয়ে বসে থাকে সে, এমনিতেও সে একটা বাচ্চা ছেলে ফলে টিভির পর্দার চাকচিক্য দিয়ে তাকে এক জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ ধরে একটানা পেরেক এঁটে দেওয়ার মত বসিয়ে রাখা সোজা, টিভিতে সে বাচ্চাদের কার্টুনের থেকেও বেশি দেখতে ভালবাসত মারপিট আর খুনোখুনি আর নারী মাংসের সমাহারে যৌনতা - এই তিনটে জিনিস - সেসব তার বড়ই প্রিয় ছিল; লুকিয়ে লুকিয়ে সেসবই দেখত সে, কেউ ঘরে এলেই সঙ্গে সঙ্গে চ্যানেল বদল – সেটা তাকে বলতেও হত না, সে নিজেই এটা টের পেত যে এগুলো বাবা বা মা দেখলে পরে বোধহয় বকা বা মার খাব, বা তাদের সামনে সেগুলো দেখতে তার নিজেরও কেমন একটা অস্বস্তি হত, ফলে সব সময় সতর্কই থাকত সে ধরা না পড়ার ব্যাপারে, একটা প্রতিবর্তী ক্রিয়া যেন কাজ করত তার মধ্যে, আর তাছাড়া তার বাবা বা মা তেমন নজর দিতও না বা ভাবতেও যেত না তাদের ছেলে টিভিতে কী না কী দেখছে সেসব নিয়ে, অত সময় বা মাথাব্যাথা তাদের কারও ছিল না; সত্যি বলতে – আমরা যারা টেলিভিশনের এই এক প্রজন্মে বাহারি রকমারি সব টিভি চ্যানেলের দম বন্ধ করা আধিক্যের মধ্যে বড় হয়েছি, আমরা প্রত্যেকেই আমাদের ছোটবেলা জুড়ে এসব ব্যাপারস্যাপার উপভোগ করেইছি, ফালতু অস্বীকার করে বা “আমি তো খুব ভাল ছেলে/মেয়ে, দাদা/দিদি” এইসব ভাট বকে কোনো লাভ নেই – এই টেলিভিশনের যুগে টিভিতে লুকিয়ে নোংরামো আমরাও অনেক দেখেছি, দেখে মিথুনও করেছি, অনেক ঝুঁকি নিয়েই দেখেছি, কেউ বলে বা শিখিয়ে দেয়নি, ঠিক যেমন খিস্তি কেউ শিখিয়ে দেয় না, সবাই একটা সময়ের পর নিজের থেকেই ব্যাপারগুলো ধরে ফেলে – যেন এক অদ্ভূত সহজাত বোধ কাজ করে আমাদের মধ্যে নিজের থেকে নিষিদ্ধ সব জিনিসের ব্যাপারে, বড় হবার সাথে সাথে এসব নিজের থেকেই হয়, আর এখন তো সব বাচ্চা ছেলের হাতে আরও ভয়ংকর এক বস্তু - একেকটা করে স্মার্টফোন, একটা সামান্য ‘ক্লিক’ এ হাজার হাজার নগ্ন শরীর সে চাইলে নিমেষে দেখে ফেলতে পারে – একজন রাজা বা সম্রাট নিজের গোটা জীবনে যত কটা নগ্ন মেয়েছেলে দেখেছে তার থেকেও অনেক অনেএএএএএক বেশি, আমরা যেমন ছোটবেলায় টিভির রিমোট চালাতে পারদর্শী ছিলাম, তারাও সব তেমনই স্মার্টফোন বস্তুটি চালাতে ওস্তাদ এখন – এর ভয়াবহতা সত্যি বলতে বোধহয় পারমানবিক বোমার থেকেও বহু গুণ ভয়াবহ হতে পারে চাইলে - যেমন সাম্প্রতিক এই কবে যেন শোনা গেল, কোথায় দুটো বাচ্চা ছেলে মোবাইলে পর্ণ দেখে একটি বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে, মেয়েটির বোধহয় বড়জোর পাঁচ বছর বয়স – তাও ভাগ্য ভাল দেবা হাতের মুঠোয় ঐ জিনিসটা পায়নি; অনেক সময়েই বাবা মায়ের অবর্তমানে ছেলে ও মেয়ে বা নারী আর পুরুষের মধ্যে গা গরম করা সব দৃশ্য দেখে সে – দেবা - অনুভব করত নিজের গোপন স্থানে এক অদ্ভুত কিন্তু মনোরম অনুভুতি, নিজের গোপন স্থানে সবার নজর থেকে লুকিয়ে গিয়ে হাতও বোলাত সে - তখন প্রথম জানল তার সেই মাংসল পিণ্ডটা হিসু ছাড়াও আরও অনেক কাজে লাগতে পারে, তবে ওসব খারাপ কিছু না, অনেকেরই বড় হতে হতে এসব হয়, সেও তো আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে – এটা বুঝতে হবে আমাদের, অনেক সময় রাতের বেলা নিজের ঘুমন্ত মায়ের পাশে শুয়েও সেসব করত সে নানা যৌন কল্পনা করতে করতে - সাবধানতা নিয়ে অবশ্যই যাতে পাশ ফিরে শোয়া তার মায়ের ঘুম চকিতে ভেঙে না যায়, মাঝে মধ্যে নিজের নগ্ন নির্লোম মসৃণ চামড়ায়, ত্বকে বা গায়ে হাত বুলিয়ে বা চুমু খেয়ে অনুভূতি নিতে নিতে আরেক হাত নিজের দুই পায়ের মাঝে ঢুকিয়ে দিয়ে…; অনেক সময় বা বেশিরভাগ সময়েই তার সেই সব কল্পনায় সে নিজের মাকে বা কাকিমাকে বা এমনকি দেওয়ালে টাঙানো নিজের মৃত ঠাকুমার জোয়ান বয়সের সুন্দর ছবি দেখে এমনকি কল্পনাতে সেই কম বয়সের ঠাকুমাকেও দেখত নগ্ন করে, আর তাদের মাংস নিয়ে খেলা করত নিজের কল্পনায়, তাদের দেহ দেখত, তাদের সুন্দর স্তন কেমন হতে পারে দেখতে – তাদের কোমর, পেট, গভীর নাভি – এইসব মনে মনে ভাবত, যদিও তাদের দুপায়ের মাঝের জায়গাখানি অর্থাৎ কিনা তাদের যোনিদেশ কেমন হতে পারে দেখতে সেব্যাপারে কোনও ধারণা না থাকায় ঐ অবধিই কল্পনা করত সে, নিজের মায়ের স্তন যেহেতু ছোট থেকে সে দেখে এসেছে ফলে তার ঘোলাটে স্মৃতিতে কিছুটা হলেও মহিলাদের স্তন সম্পর্কে বলতে গেলে মোটামুটি একটা ধারণা ছিল, তার এমনকি এখনও মনে আছে, যখন সে সবে কথা বলতে শিখেছে, তখন এক বার নিজের অর্ধ নগ্ন মাকে স্নানঘর থেকে বেরোতে দেখেছিল সে, তার মা সবে স্নান করে বেরিয়েছে – নীচে একটা সায়া পড়ে ছিল, আর বুক, উদর-স্থল সব ছিল উন্মুক্ত, ব্লাউজটা হাতে ধরা, সেটা বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থেকে পড়েছিল, তখন দেবা সামনে ছিল, নিজেরই বাচ্চা ছেলের সামনে তখন তার মা তেমন লজ্জা পায়নি বলে সাবলীলভাবে নিজের ছেলের সামনেই সেই সময় জুড়েও নিজের বুক নগ্ন করে দেখাতে তার কোনও দ্বিধা হত না – বাচ্চা ছেলে, তাও তার নিজের – এতে আবার লজ্জা কী?! দেবা যখন আরও বড় হতে থাকে তখন তিনি এই অভ্যেসটা একটা সময় বদলান ঠিকই, কিন্তু স্মৃতিতে দেবার তখন থেকে সেই এক দৃশ্য রয়ে গেছে, তার মায়ের দুই নিটোল সুন্দর মসৃন স্তন, আর তাদের দুটোর উপরের একটা করে বোঁটা, যা তার শিশুকালের অত্যন্ত প্রিয় আহার্য, যা সে শিশুকালে সব সময় মুখে দিয়ে রাখত – সেই এক জোড়া স্তন তখন থেকেই তার আবছায়া স্মৃতিতে রয়ে গেছে(“জননী জায়ার মাঝে ভেদাভেদ নাই, একজন স্তন্যদাত্রী অন্যজন মাই”), যা সে কখনো নিজের কাকিমার তো কখনো নিজের মৃত ঠাকুমার বা পাড়ার কোনো সুন্দরী দিদির বুকে বসিয়ে নিয়েছে নিজের কল্পনায় সুবিধে মত – মোদ্দা কথা, তার মা, কাকিমা, এমনকি মৃত ঠাকুমাও, মূলত এরাই তার স্বপ্নের সব নায়িকা ছিল একেকজন – বোকা(চোদা) বাক্সের পর্দায় দেখা সিনেমার নায়কের মত সেও নিজেকে কল্পনায় দেখত নিজের মাকে বদমাশ গুণ্ডাদের হাত থেকে বাঁচাচ্ছে একা খালি হাতে পঞ্চাশ-ষাট জনের সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে চুদে রেখে দিয়ে, রক্ষা পাবার পর তার কাঁধে আশ্বস্ত হয়ে মাথা রাখছে কাঁদতে কাঁদতে তার মা বা কাকিমা বা তার সেই মৃত জোয়ান ঠাকুমা ভয়ে বৃষ্টিতে ভেজা কমনীয় শরীরে কাঁপতে কাঁপতে – বৃষ্টিতে ভেজা কাপড় তাদের দেহের সাথে জড়িয়ে গেছে এমনভাবে যে তাদের শরীরের প্রতিটি বাঁক আর খাঁজ নির্ভুলভাবে বোঝা যাচ্ছে, সে তাদেরকে আশ্বস্ত করতে তাদের মাথায় আশ্বাসের হাত রাখল – তাতে করে তারা চকিতে একটু চমকে কেঁপে উঠল ঠিকই কিন্তু ধীরে ধীরে তার হাতের উষ্ণ স্পর্শে আর তার দেহের এবং নিঃশ্বাসের উষ্ণতায় যেন একটু ভরসা পেয়ে শান্ত হল, আলতো করে নিজের তর্জনী আর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তাদের চিবুক ছুঁয়ে তাদের মুখ উপরে তুলে তাদের চোখে চোখ রাখল হয়ত সে, কিছুক্ষণ ধরে তারা তাকিয়েই থাকল একে অপরের চোখের দিকে – চোখে চোখে প্রেম হল - আলতো করে সে তাদের কপালে একটা চুমুও খেল – একে অপরের ঠোঁটের উপর নিজেদের গরম নিঃশ্বাস তারা অনুভব করল কিছুক্ষণ ধরে- মুখ তাদের একে অন্যের কাছে আরও কাছে এল, আর তার পরমুহূর্তেই দেখা গেল তার কল্পনায় তাদের সাথে সে বাজারী ছায়াছবির নায়কের মত কোমর পাছা সব দুলিয়ে দুলিয়ে নাচছে, নাচার ফাঁকে ফাঁকে নিজের সুন্দরী মায়ের বা ঠাকুমার কোমরে বা ঘাড়ে বা গলায় আলতো করে আঙুল দিয়ে জাপ্টে ধরছে, চিমটি কাটছে বা চুমু খাচ্ছে হয়ত, উররে শালা - আর তার পরের দৃশ্যেই নিজের মায়ের সাথে বা কাকিমার সাথে সোজা বিছনায় প্রায় নগ্ন হয়ে ঐসব, বা নায়ক নায়িকার মধ্যে চরম অশ্লীল যেসব হিন্দি গান যেখানে প্রায় নগ্ন নায়িকার খোলা চামড়ায় চুমু খেয়ে খেয়ে ভরিয়ে দিচ্ছে নায়ক সমানে - যেগুলোকে আদতে পর্ণোগ্রাফি বললেও ভুল বা অত্যুক্তি হয় না, সেসব গানেও তার কল্পনায় নায়ক সে নিজে আর নায়িকা তার মা, ঠাকুমা বা কাকিমা বা এরমই পরিচিত কোনও এক মেয়ে বা মহিলা হয়েই যেত, বা একেবারে সিনেমার রগরগে যেসব যৌন দৃশ্য – সেসবেও তাদেরকে নিজের সাথে দেখত সে নিজের কল্পনায় – ইংরেজিতে যাকে বলে “ফ্যান্টাসি”, তার সেসব বলতে মূলত এই ছিল(এই শালা ফ্রয়েড আর কিছুতেই পিছু ছাড়ে না!) – হয়ত আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছে মাথা খারাপ লোক যাদের কারো না কারো কখনো না কখনো গিয়ে এইসব ভাবনাচিন্তা মাথায় চারা দিয়েছে কোনো না কোনো বয়সে, তবে নিজেদের মা কাকিমা বা বাড়ির অন্যান্য মেয়ে বা মহিলাদের নিয়ে এইসব কল্পনার কথা কেউ কি আর সাহস করে জীবনে নিজে মুখ ফুটে স্বীকার করে? তাদেরকে মানসিক রোগী বলে পাগলা গারদে পাঠানোর বা প্রকাশ্যে গুলি করে মারার নিদান দেবে লোকে এসব শুনলে পরে; এসবের সাথে হিংসা আর খুনোখুনি তো তার প্রিয় ছিলই - যাতে লাল রক্ত দেখলেই তারও গায়ের রক্ত টগবগে গরম হয়ে যেত একেবারে, অনেক সময় সেসব হানাহানির দৃশ্য দেখলে পরেও, বিশেষ করে কাউকে শ্বাসরোধ করার দৃশ্য কোনো সিনেমা বা কোত্থাও দেখলে পরেও নিজের সেই বিশেষ স্থানে এক অদ্ভুত যৌন উত্তেজনা অনুভব করত সে, অনেক সময় নিজেকে লুকিয়ে লুকিয়ে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে বা নিজের দম খিচে রেখে মনে মনে নিজেকে বাবার, কাকার হাতে বা মায়ের বা কাকিমার হাতে শ্বাসরোধ হবার কল্পনা করতে করতেও সবার থেকে লুকিয়ে মৈথুন করত সে, হিংসা যা কিছু দেখত সেসব দেখে তা সে নিজের ঘরের মধ্যে নকল করারও চেষ্টা করত, বাচ্চারা এসব করেই থাকে, একটা সময়ে তো টিভিতে ‘শক্তিমাণ’ সিরিয়াল দেখে তা সেজে উঁচু জায়গাতে দাঁড়িয়ে ক্যাওরামো করতে গিয়ে বেশ কিছু ছেলে মারাও গেছিল সমানে বেশ আগে - নয়ের দশকের শেষ থেকে শূন্য দশকের শুরুর দিকের মধ্যে একের পর এক; সেও সেই সব বাচ্চাদের মতই তো ছিল - ঘরের মধ্যে হাত পা নেড়ে নানা রকম কথা বলে নিজের সকল অদৃশ্য অলীক শত্রুদের তুলোধোনা করে বেশ আনন্দই পেত সে, নিজের এক প্রিয় কোলবালিশকে শত্রু বানিয়ে এমন পেটাত যে প্রায়ই সেলাই ফাটিয়ে দিয়ে ভেতরের তুলো আর বীচি সব বর করে দিত – রাতের বেলা শোবার ঘরে সেই বালিশ তার স্বমেহনের সময়কার যৌন সঙ্গী, আবার খেলার সময় সেটাই তার কাল্পনিক শত্রু – একটা স্রেফ ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ যাকে বলে; ঘরে বিছনায় চারদিকে ভরে পড়ে থাকত বালিশের তুলো আর বীচিতে দেবা সেটাকে ধরে মেরে ফাটানোর ফলে – তার জন্যও বাবা মায়ের হাতে বেশ মার খেয়েছে সে অনেক বার, অনেক সময় হিরো সেজে আরও নানা রকম ক্যাওরামো করতে গিয়ে বেকায়দায় ব্যাথাও পেত আর বকাও খেত, কিন্তু সমস্যা হল এক দিন, যেদিন সে সেই একই কাজ নিজের খুড়তুতো ভাইয়ের সাথে করে দেখতে গেল দোতলায় গিয়ে।
যেদিন সে বাড়ি থেকে পালাল, তার ঠিক দুদিন আগেরই ঘটনা হবে সেটা। বেশি বিস্তারে না গিয়ে খুব সংক্ষেপে ঘটনাটা বললে পরে তা দাঁড়ায় এই -
সেদিন সন্ধ্যের দিকে তার বাবা মা গেছিল বাইরে কোথাও একটু ঘুরতে - কারও যেন বাড়িতে গেছিল দেখা করতে বা নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে, কিন্তু তাকে নিয়ে যায়নি, কারন এর আগেও তাকে এক বার এক জনের বাড়িতে নিয়ে গেছিল, কিন্তু সেখানে গিয়ে সে এমন সব বাঁদরামো আর অসভ্যতা করা শুরু করেছিল সবার সামনে, যে তার পর আর কোনোদিন তার বাবা মায়ের তাদের বা অন্য কারও বাড়িতেও দেবাকে ছাড়া যাওয়ার মতও মুখ ছিল না - সেদিন সেখান থেকে বাড়ি ফিরে যার জন্য দেবা বাবা মায়ের হাতে বেশ ভাল মতই খেয়েছিল আরং ধোলাই একেবারে যাকে বলে, তাই সেদিনও তাকে সাথে না নিয়ে গিয়ে শুধু তারা দুজনেই গিয়েছিল নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে, আর তাছাড়া তখন দেবার পরীক্ষাও কাছেই ছিল, ফলে বেচারা দেবা একাই ছিল বাড়িতে; পড়তে ভাল লাগে না, এদিকে কী করবে একা একা তাই ভাবতে ভাবতে সে ভাবল ওপরে দোতলায় গিয়ে নিজের ভাইটার সাথে গিয়ে একটু খেলবে, তাই ভেবে ওপরেও গিয়েছিল সে, তার কাকা কাকিমাও তাকে আদর করে দিয়েছিল ওপরে ঢুকতে যেমন প্রায়ই দিত, তাকে প্রথমে বলেছিল কিছু খাবে নাকি, কিন্তু তখন সে খুব দুরন্তপনার ইচ্ছেয় ছিল, ফলে ঢুকেই প্রথমে দৌড়ে নিজের ছোট ভাইয়ের কাছে গেছিল, “চ, খেলি” এই বলে তার সাথে খেলাখেলির নামে ঘরে ঢুকে কেলাকেলিও শুরু করে দিয়েছিল সে ঘরের ভেতর গিয়ে, যা হয় আরকি, তার কাকা কাকিমা নিজেদের মত ব্যস্ত ছিল, সে নিজে টিভিতে যা কিছু দেখেছে সে সব কিছুই সে নকল করছিল নিজের ভাইয়ের সাথে, আর তার ভাইটি তার তুলনায় বয়সে এবং আকারেও ছোট হওয়ায় তার সাথে গায়ের জোরে পেরেও উঠছিল না, এবং তখনই হঠাৎ এক ঘুষিতে বেকায়দাভাবে নিজের খুড়তুতো ভাইয়ের ঠোঁট মেরে ফাটিয়ে দিয়েছিল সে, এবং তার পর যথেষ্ট ভয়ও পেয়ে গেছিল স্বাভাবিকভাবে, কারন এটা জানাজানি হলে পরে বা তার বাবা মায়ের কানে গেলে পরে তার কপালে দারুন দুর্ভোগ থাকবে তা সে জানত ভাল মতই, ফলে নিজের ভাইকে সে “চুপ কর, চুপ কর” বলে ফিসফিসিয়ে শাসাচ্ছিল, কিন্তু তার ভাইটি ব্যাথায় যথারীতি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে কেটে ভাসিয়ে দিচ্ছিল, সেই কান্নার আওয়াজ শুনে তার, মানে দেবার কাকা কাকিমা, তারাও চলে এসেছিল সেই ঘরে, তার পর পরিস্থিতি সব কিছু দেখে আর নিজের ছেলের মুখে সব শুনে তার কাকা যে এমনিতে বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিল, সেই লোকটার মুখখানিও নিমেষে গম্ভীর থমথমে হয়ে গেল, দেবা ওদিকে ধরা খাওয়া চোরের মত মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ঘরের এক কোণে, তার কাকিমা নিজের ছেলেকে “দেখি কতটা কেটেছে” বলে নিজের ছেলের ঠোঁটের ক্ষতটা দেখছিল, তখনই নিমেষের মধ্যে - খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে গেল ব্যাপারটা - দেবার কাকা তার দিকে তেড়ে এসে তার চুলের মুঠি ধরে তাকে বেশ ভাল মত মার লাগাল প্রথমে, তার কাকিমা “এই মেরো না ওকে” বলে থামাতে গেছিল ঠিকই, কিন্তু তার কাকা যেন কারও কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছিল না তখন- সপাটে কটা কিল আর চর তার পিঠে গায়ে ঘাড়ে হাতে নানা জায়গায় আছড়ে পড়ল, দেবার মুখ দিয়ে ব্যাথায় পর পর কতগুলো চিৎকার বেরিয়ে এসেছিল, কিন্তু তার কাকা না থেমে তাকে প্রথমে এক নিঃশ্বাসে মেরেই গেল, আর তার পর মারা থামিয়ে তাকে চুলের মুঠি ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে এক ঝাঁঝি মেরে বলল সেই ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে, তার কাকিমনি যদিও দেবাকে আদর করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তার কাকা কাকিমনিকেও ঝাঁঝি মেরে “একদম ওসব করবে না” বলে আবারও দেবাকে বলল সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে, দেবাও সেখান থেকে বেরিয়ে গেল, বাইরে যাওয়ার সময় দেবা শুনেছিল তার কাকিমনি আর কাকার মধ্যে আরও কিছু কথা - “বাচ্চা ছেলে, কি যে কর না তুমি” “এইশোনো, তুমি না একদম লাই দেবে না একদম! একদম ওসব করবে না আমি বলে রাখলাম!” “(একটু চাপা গলায়)এখন যদি ও গিয়ে দাদাকে বলে” “বললে বলবে! আমিও বলব ওর ছেলে কীরম একটা বাঁদর জন্তু তৈরী হয়েছে! ওর ঠোঁটটা কতটা - এই! তুই কি বেরোবি এখান থেকে?! এখনও দাঁড়িয়ে দেখছে ড্যাবড্যাব করে নির্লজ্জ বেহায়া!” তার কাকার এই ধমক শুনে দেবা কেঁপে উঠে সেখান থেকে সিড়ি দিয়ে তরতর করে নেমে চলে গেছিল সোজা এক তলায় নিজের ঘরে, প্রথমে নিজের শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ ফুঁপিয়ে ভেঙে পড়েছিল কান্নায়, অনেকক্ষণ একা কাঁদার পর একটু শান্ত হয়েছিল সে, তার সাথে তার নিজের মনে একটা চাঁপা ভয়ও কাজ করতে শুরু করে দিয়েছিল সেই সময় - যে যদি এক বার কথাটা কোনোভাবে তার বাবা মায়ের কানে যায় তাহলে পরে তার কপালে আরও বেশি করে মারধর জুটবে, ফলে তার মাথায় তখন বার বার “বললে বলবে! আমিও বলব ওর ছেলে কীরম একটা বাঁদর জন্তু তৈরী হয়েছে” এই কথাগুলোই বার বার বার বার বারংবার সমানে ঘুরপাক খাচ্ছিল আর তার করোটির ভেতরের দেওয়ালে নানা জায়গায় ধাক্কা লেগে বারংবার সেই ঘুরেফিরে তার নিজের কানের পর্দায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। ফলে যথাসময়ে বাড়িতে বাবা মা ফিরে এলেও তাদের সামনে সে একটু ফোটাও কাঁদেনি, যদিও তার চোখের কোণে প্রায় সব সময়ই জল টলটল করছিল - ফলে যাতে তার বাবা বা মা সেটা দেখে না ফেলে তার জন্য তাদের চোখে যতটা সম্ভব কম চোখ রেখে তাদের সাথে কথা বলছিল সে, কথা বলতেও বেশ কষ্টই হচ্ছিল তার কারন কান্নাটা তার গলার কাছেই সব সময় উঠে এসে ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও যাতে তারা কোনোভাবে কোনও কিছু টের না পায় তার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছিল সে, আর তার সাথে তার কাকারও ভয় ছিল, যদি তার কাকা কখনো কথাটা তার বাবার সাথে দেখা হলে পরে ফট করে নালিশ করে বলে দেয় তখন? শুধু রাতে মায়ের সাথে একা ঘরে শোয়ার সময়ই ফের ফুঁপিয়ে বন্ধ দরজার আড়ালে সেদিন লুকিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল সে বিছনায় শুয়ে, তাও সাবধানে যাতে তার মায়ের নিদ্রার ব্যাঘাত না ঘটে, নিজের বাবা মায়ের সামনে হাসতে না চাইলেও হাসছিল সে সেদিন, যাতে তারা কেউ কিছু বুঝতে না পারে।
নিজের মায়ের কাছে সে অনেক বার শুনেছে ছোটবেলার কথা - যে সে যখন আরও ছোট ছিল, একেবারে কোলের শিশু যাকে বলে, তখন তার কাকা বাড়িতে ফিরলে পরেই তাকে নাকি কোলে ধরে রাখা দুষ্কর হত, আর তার কাকা তাকে নিজের কোলে বসিয়ে নিজের কবজি ঘড়ি দেখাত, আর সেটা দেখলেই একেবারে খিলখিলিয়ে হাসতে থাকত সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আর সেই কাকা যে তাকে এত আদর করত সেই কিনা তাকে এভাবে মারল! আসলে প্রিয় মানুষেরা যখন আঘাত দেয়, তখন সেই ক্ষত মনের ভেতরে বোধহয় এক অন্য মাত্রা পায়।
এই ঘটনার পরদিন থেকে আর দোতলায় ওঠার সাহস করেনি সে – সাধারণত প্রায়ই গিয়ে হানা দিত, কিন্তু ঐ দিনের পর থেকে আর যায়নি। আর বাড়িতে এমনিতে যেসব হইচই সে করে সে সব কিছুই করছিল না, একদম চুপচাপ ছিল বসে নিজের ঘরেই বেশিরভাগ সময়, টিভিও আর দেখছিল না, পড়াতে আর ওর মন বসছিল না, হয় চুপচাপ শুয়ে ছিল, নয় জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল উদাস হয়ে, তার মা এক বার তাকে জিজ্ঞেসও করেছিল যে তার শরীর খারাপ কি না, ছেলের মন খারাপ বলে কথা - মায়েরা এসব ধরতে পারে ঠিক, যতই লুকোনোর চেষ্টা করো না কেন – তবে সে মায়ের সামনে নিজের অভিনয় চালিয়েই যাচ্ছিল। নিজের গায়ে যেই সব জায়গায় সে মার খেয়েছিল, সেখানে কিছু জায়গায় ফুলে উঠে নীল হয়ে গেছিল, আর কিছু জায়গায় এমনি ব্যাথা ছিল খুব। কিন্তু সেগুলোও সমানে সব সময় অতি সাবধানে গেঞ্জির তলায় বা হাত দিয়ে ঢেকে লুকিয়েই গেছিল সে।
মনে মনে কল্পনায় নিজের সেই ভাইকে খুন নানাভাবে করেছিল সে তখন বসে বসে নিজের ঘরে - এক বার তাকে জলে ডুবিয়ে কষ্ট দিয়ে দিয়ে মারল, আরেক বার একটা চাকু বের করে তাই তার সেই ভাই এর নরম গলায় একটানে চালিয়ে নলিটা ঘ্যাঁচ করে চিরে দিল, আবার আরেক বার তার ভাইয়ের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে দিয়ে মারল - বালিশ চাপা দেবার সময় তার সেই ভাইয়ের কন্ঠে কষ্টে কোকানোর আওয়াজ আর হাত-পায়ের ছটফটানি মনে মনে কল্পনা করে এর মধ্যেও এক বার রাতের বেলা বিছনায় নিজের ঘুমন্ত মায়ের পাশে শুয়ে শুয়ে ওটাও…।
আসলে একটা সামান্য ভুল থেকে যে এভাবে তাকে সেদিন অপদস্থ হতে হবে তাও তার নিজেরই কাকার হাতে নিজের কাকির আর ভাইয়ের সামনে, তা সে কখনো কল্পনাতেও আনতে পারেনি, যদিও সে যেটা করেছিল তাকে আদতে ভুল বলাটাও সঠিক হবে না, কারন তার নিজের বাবা মা তাকে কথায় কথায় মার লাগালেও তার নিজের খুড়তুতো ভাইটিকে তারা বেশ আদরই করত সে তাদের সামনে তারই মত বাঁদরামো বা অসভ্যতামো করলে পরেও – যা হয় আরকি, আর সেই কারনেই মনে মনে নিজের সেই ভাইটিকে খুব হিংসেও করত সে – একই দোষের জন্য তাকে মার খেতে হলে আর তার কাকার ছেলের সাত খুন মাফ যদি হয় তার নিজেরই বাবা মায়ের কাছে – তাহলে পরে হিংসে হওয়া স্বাভাবিক, অনেক সময় তো সে মনে মনে এও ভাবত এবং চাইত প্রাণপণে যে তার সেই ভাইটি যেন তাদের বাড়ি থেকে চিরতরে গায়েব হয়ে যায়, আর সেদিন যখন সে খেলার ছলে নিজের সেই ভাইটির ওপর বল প্রয়োগ করছিল, তখন তা করতে করতে খেলার মাঝেই তার মনের অবচেতন কোণায় আবার করে সেই অসূয়া জট পাকাচ্ছিল, ফলে রাগের মাথাতেই কখন যে ফট করে হাতের জোরটা একটু বেশি পড়ে গেছিল, তা সে নিজেও বুঝতে পারেনি – হয়ত ইচ্ছে করেও মারেনি, মারটা পড়ে গেছে।
তাছাড়া এই যে ঘটনাটা ঘটল – তার জন্য মনে মনে তার কাকার থেকেও তার সেই ভাইটির উপর তার রাগ ছিল বেশি, তার মনে হচ্ছিল, যে তার ভাইটির জন্যই তাকে মার খেতে হল – সে শালা একটু মুখটা বন্ধ রাখলেই বা ব্যাপারটা চেপে গেলেই হয়ে যেত - বাচ্চারা কবে বা নিজেদের ভুল বুঝত পেরেছে বা স্বীকার করেছে? এই দিক থেকে বাচ্চাদের এবং নারী জাতির মধ্যে আবার বড্ড মিল সত্যি বলতে।
আর এই সবের সাথে সাথে প্রচণ্ড রাগ, অভিমান আর অপমান বোধ থেকে বড় কিছু একটা করে বসবে আর বাড়ির সবাইকে নাজেহাল করে রেখে দিয়ে যাবে চিরতরে - এই চিন্তাও সব সময় তার মাথায় ঘুরছিল, সেই থেকেই সেদিন ফট করে নিজের মায়ের অলক্ষ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল সে। রান্নাঘরের কাজ সব সেরে তার মা ক্লান্ত স্বরে দেবার নাম ধরে ডেকে তাকে না পেয়ে তার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে দোতলায় গেছিল এই ভেবে যে হয়ত দোতলায় গেছে সে, কিন্তু সেখানেও এমনকি ছাদেও তাকে না পেয়ে পরে তারা দুজনে মানে তার মা আর কাকিমনি মিলে খুঁজতে গিয়ে বাইরের দিকের দরজা আর বাড়ির বাইরের গেট – দুটোই হা করে খোলা পেয়ে ভয়ে অস্থির হয়ে সেই পাড়ায় এর বাড়ি ওর বাড়ি খুঁজতে শুরু করে দিল, কিন্তু উনি তো তার অনেক আগেই একেবারে ছুট দিয়ে পৌঁছেই গেছেন সেই পুকুরের ধারে, এবং তার একেবারে গভীরেও অনেক আগেই তলিয়ে পৌঁছে গেছেন। এমনিতেও সেখানে সেই পুকুরের আশপাশে সেই সময় কোনও লোক ছিল না – যদিও কেউ ছিল না এটা বললে আবার ভুল বলা হবে, একটা লোক যাচ্ছিল ঘটনাচক্রে সেই সময় পুকুরের পাশ দিয়েই, যখন সেখান দিয়ে সে যাচ্ছিল তখন দেবাকে ডুবতে দেখেছিল সে, কিন্তু ততক্ষণে দেবা ডুবেই গেল তার সামনে, সে নিজেও সাঁতার জানত না অতএব পরে থানা পুলিশের বেকার ঝামেলা মাথায় না নিতে চাওয়ায় চুপচাপ কিছু না দেখার ভান করে আশপাশ দেখে নিয়ে সেখান থেকে হাঁটা দেয় সে; দেবা প্রথমে ঝাঁপ সাহস করে রাগের মাথায় দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরে আবার “বাঁচাও বাঁচাও” বলার চেষ্টা করছিল ডুবে যাওয়ার সময় নাকানিচোবানি খেতে খেতে।
তার বাবা আর কাকা দুজনেই খবর পেয়ে কাজ থেকে ফিরে এসে একেবারে হন্তদন্ত হয়ে খুঁজে যাচ্ছে দেবাকে, সেই পুকুরের দিকেও তারা গেছিল, কিন্তু তখন সেখানে তারা কেউই কিছু দেখেনি, আর নিজেরা সাঁতার না জানায় কেউ ঝাঁপ দেওয়ার সাহসও করে দেখেনি তখন, তার মা তো প্রায় নিজেই পাগলের মত ঝাঁপ দিতে যায় আরকি কিন্তু তাকে সবাই মিলে তারা থামিয়ে নেয়; পরে পুলিশের কাছে গেলে অন্তত আধঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর অনেক কান্নাকাটির শেষে পুলিশের লোকেরা দেবার পরিবারের লোকেদেরকে আশ্বস্ত করেছিল যে দেবাকে তারা ঠিক সময় মত খুঁজে দেবে।
বেচারা দেবা – পুকুরের গভীরে অন্ধকারে নোংরা ধুলোময়লার মধ্যে পড়ে আছে – পুকুরের অতি ক্ষুদ্র ছোট ছোট সব মাছেরা আর অন্যান্য যত আছে সব পোকামাকড়েরা তারা সবাই কৌতূহলী হয়ে তার শরীর ঘিরে একে একে ভিড় জমিয়েছে – তারা কৌতূহলী হয়ে দেখছে এক অতিকায় দানব তাদের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করেছে – ওদিকে নিথর শান্তির ঘুমে চিরনিদ্রায় নিদ্রিত দেবার শরীর ধীরে ধীরে পচে ফুলে উঠছে – এই সুন্দর মনোরম দৃশ্যটা এক বার পাঠকেরা চাইলে কল্পনা করে দেখতে পারেন – হ্যাঁ, মনোরম দৃশ্যই – মুদ্রিত নয়নে শান্তির ঘুম মনোরম হবে না তো আর কী হবে - বিশেষ করে সুন্দর শান্ত দেবার সেই চোখ বোজা মিষ্টি মুখটাকে সেভাবে কেউ কল্পনা করলে পরে তাই বলবে – বিশেষ করে তার দুই চোখ – খুব সুন্দর টানা টানা; সুন্দর টিকালো নাক – আর তার দুই ফোলা নরম নিটোল মাংসল ঠোঁট – যা রাগ করলে পরে আরও ফুলে উঠত – সেগুলো দেখলে পরেই মনে হবে রস ভরা আছে ওতে – খেতেও ইচ্ছে করবে – এক বার তাদের বাড়িতে আসা একটা লোকের দেবার ঠোঁটদুটোকে দেখে সেই ইচ্ছে হয়েওছিল – আরে দেবার নিজের কাকারও অবধি সেই ইচ্ছে এক বার হয়েছিল - কিন্তু সেই ইচ্ছে পরে তাদের দুজনেরই অপূর্ণই থেকে যায় কারন খেয়ে দেখার সাহস তারা কেউই কখনো করে দেখেনি – অতএব এত সুন্দর সেই শান্ত ছেলে - দেবশিশু যেন – ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মত মুখভঙ্গিতে বন্ধ চোখে শান্তভাবে জলের তলে শুয়ে ঘুমোচ্ছে – এই ব্যাপারটা মনোরম ছাড়া আর কিছু হতে পারে কি?
সেই রাত আর তার পরের গোটা তিনটে দিন চলে গেল এমনি, দেবার বাড়ির লোকেদের কাছে ঐ কয়েকটা দিন ছিল অভিশপ্ত দু-দুটো দশকের মত – খাওয়াদাওয়া তার বাবা মায়ের মাথায় উঠেছিল এক প্রকার, ঐ পুকুরে খুঁজে দেখলে তাড়াতাড়ি পাওয়া যেত মৃত হলেও - কিন্তু পুলিশ সাধারণত কচ্ছপের গতিতেই চলতে পছন্দ করে এটা একটা সার্বজনীন বাস্তব - একটা খড়ের গাদায় আলপিন হারিয়ে গেলে কে শালা বেফালতু ঝামেলা মাথায় নেবে? দেবা তো শালা আর কোনো নেতা মন্ত্রীর ব্যাটা না, সেসময় শহরে আবার সেই এলাকাতে কাছেই কোথায় কোন এক বিরোধী দলের কোন এক নেতার ত্রাণ বিতরনের অনুষ্ঠানে হঠাৎ কী এক ঝামেলা বেঁধে পদপিষ্ট হয়ে বেশ কিছু লোক মারা যায় – সেই ঝামেলার মাঝে আবার অনেকে সেখান থেকে ত্রাণের জিনিস থেকে শুরু করে নিয়ে মঞ্চের চেয়ার টেবিল জলের বোতল আলোবাতি হাতের কাছে যা পায় তাই তুলে নিয়ে যেতে শুরু করে - আর তাই নিয়ে রাজনৈতিক ঝামেলা বাঁধে আর সেই বিরোধী নেতা গ্রেপ্তার হয় কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, যা হয় আরকি- থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ হ্যানত্যান, শাসক ও বিরোধীদের একে অন্যের দিকে দোষ ঠেলা, শাসক ও বিরোধীরা একে অন্যকে দেখে কাদা ছোড়াছুড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি চলে, পরে আবার ছাড়া পেয়ে গলায় মালা জড়িয়ে সেই মাল বেরিয়েও আসে শীঘ্রই, কিন্তু ওদিকে দেবার কোনো খোঁজ নেই, দেবা ঐ পুকুরের ওখানেও গিয়ে থাকতে পারে এই কথাটা তার বাবা মায়ের মাথায় বারংবার এসেছিল বটে কিন্তু ইচ্ছে করেই এই সব কুচিন্তা তারা মাথা থেকে তখন দূরে রাখছিল – কারন বারবার ঐ কথাটা মনে হতেই তারা সবাই শিউড়ে উঠছিল প্রতি বার এক শীতল আতঙ্কে, দুশ্চিন্তায় তখন ঘুম খাওয়া সব প্রায় ছেড়ে দিয়ে স্রেফ অধৈর্য অপেক্ষায় প্রতিটা প্রহর কাটছিল সবার বিশেষ করে দেবার বাবা আর মায়ের, তার বাবা তো এক বার কাউকে না বলে রাতের দিকে টর্চ নিয়ে সেই পুকুরের দিয়ে আবার গেছিল দেখতে, জলে নামার এক বার চেষ্টাও অনেক সাহস করে করেছিল, কিন্তু শেষমেশ ভয়ে আর পারেনি, সেও মরে গেলে তার পরিবারের কী হবে এই ভেবে সে রাতে সেখান থেকে সে ফিরে আসে – তখন তার অসহ্য লেগেছিল ব্যাপারটা – তার ছেলে নিখোঁজ আর সে বাবা হয়েও কিছু করতে পারছে না, পুকুরে সে নিজেই নামতে চাইছে কিন্তু পারছে না – নিজেকে কেমন যেন নপুংশক মনে হয়েছিল লোকটার তখন; চতুর্থ দিন - বেশ গভীর রাতের দিকে - তখন অনেক রাতের বেলা - তার লাশটা আবার ফুলে ভেসে ওঠে পুকুরের ওপরে, দুজন লোক তখন আধো আঁধারে সেখান দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় আবছায়া কিছু একটা ভেসে থাকতে দেখেও ভেবেছিল হয়ত নোংরা জঞ্জাল কেউ পুকুরের জলে ফেলে রেখে গেছে – হয়ত তাই ভাসছে। তাই ভেবে তেমন পাত্তা না দিয়ে ধোঁয়া টানতে টানতে তারা অন্যদিকে পা বাড়ায় – দেবার লাশ ভাসতে থাকে।
তার ভাসতে থাকা লাশটা চার দিনের পরের দিন সকালের আলো ফুটতেই পাওয়া গেল অবশেষে। যেই মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছিল, তার দলের লোকেরা সে খবর শুনে পুলিশকে খোঁচা মেরে খবরের লোকেদের বলে যে এরাজ্যে সরকারের নজর শুধু বিরোধীদের কাজকর্মের দিকেই, বাকি সব ব্যাপারে তারা ব্যর্থ নাহলে তিনদিন ধরে তারা নিখোঁজ ছেলেটির কোনও খোঁজ না করে স্রেফ বিরোধীদের হেনস্তা করে যায় বেফালতু? শাসকদলের কিছু চ্যাংড়াপ্যাংড়া এই কথার পাল্টা দিয়ে বলে যে হারিয়ে জলে ডুবে গেলে পুলিশ জানবে কী করে, ছেলেটি তো নাকি অনেক আগেই ডূবে মরে গেছিল, এরম অনেক ঘটনাই ঘটে, যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক, ছেলেটির পরিবারের সকলের প্রতি তাদের সমবেদনা আছে, কিন্তু তা বলে তার দায় তো আর সরকারের বা শাসকের বা পুলিশেরও নয়, হতে যাবেই বা কেন? তাদের অনেকে আবার সরাসরি ছেলেটির মায়ের দায়িত্বহীনতার দিকে প্রশ্ন তোলে, যে কীরম দায়িত্বজ্ঞানহীন মা হলে পরে নিজের মায়ের নজর এড়িয়ে একটা বাচ্চা বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে পারে - এই মারামারি খবরের চ্যানেলের বাতানুকূল সব ছিমছাম স্টুডিয়োতে কিছুদিন চলার পর সব আবার যথারীতি স্বাভাবিক হয়ে যায় – স্বাভাবিক আর শুধু হয় না দেবার বাবা মায়ের জীবন।
শাসক দলের কুকুরদের কথাটা অবশ্য ভুল কিছু নয়, সত্যিই তো, পুলিশ আর কী করবে? এরম অনেক ঘটনাই ঘটে, প্রত্যহ গড়ে নাকি অন্তত পঁচিশ খানা জলে ডুবে মৃত্যু ঘটে এখানে এদেশে, বছরে কম করেও আটত্রিশ থেকে আশি হাজার মৃত্যু তো ঘটেই জলে ডুবে, বেশিরভাগই ছোটোদের - এক থেকে চোদ্দ বছরের মধ্যে; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় অসতর্ক বা ব্যস্ত বাবা মায়ের নজর এড়িয়ে বাচ্চা কোনোভাবে কাছেই কোনও জলাভূমিতে ডুবে মরে, এক বার যেমন এই বাংলাতেই কোথাও - টিভি সিরিয়াল দেখতে ব্যস্ত বাবা মায়ের নজর থেকে লুকিয়ে একটা বাচ্চা কোথায় বাড়ির কাছেই পুকুরে ডুবে গেছিল – তথ্যের পরিসংখ্যানে ভুল থাকলেও থাকতে পারে, তবে এটা তো সত্যি – প্রচুর মৃত্যু হয়। বাচ্চারা তো হারিয়ে যাবেই নানানভাবে, ভালো জিনিস দুনিয়ায় যত কম থাকে ততই ভালো, তাই নয় কি?
দোষটা কার? দেবার মায়ের? তার কাকার? তার ভাইয়ের? পুলিশের? সরকারের? নাকি তার নিজেরই? কার?!