‛ম্যানুয়াল–গিগা কবিতা গ্রাউন্ড’
গিগা বুলেটিন
‛ম্যানুয়াল–গিগা কবিতা গ্রাউন্ড’
গিগা বুলেটিন
গিগা কবিতা গ্রাউন্ড; এটা একটা খাঁ-খাঁ ময়দান হতে পারে, কিংবা শব্দের মতো কিছু উপড়ানো ঘাস, ভাবছিলাম খেলাটা কী-রকম হতে পারে!—শব্দ কবিতাকে কীভাবে যুক্ত কিংবা বিযুক্ত করা যায়, শব্দটা আমিই রাখবো উপরন্ত বাক্যের শরীর থেকে ছিঁড়ে দেখবো কবিতা। পুরোটাই খেল্; ঘোড়ার ভাঙা আড়াই চাল হতেই পারে, কিংবা উট কৌণিক যেভাবে তাকিয়েছে, লাইফের পাজ্যেল যেভাবে টেনে টেনে সল্ভ হয়, অথবা সবটাই আধুরা।
গিগা কবিতা গ্রাউন্ড একটা কবিতা ফান, শব্দের মুখে একাকী আয়নাকে ঘষে ঘষে যতোটা সমতল করা যাবে, ‘বালির সমুদ্র’-কে সোয়াপ করলে যেমনটা ‘সমুদ্রের বালি’, হলুদ আর নীলের পুরো ভিজুয়ালটাই চেঞ্জ হয়ে গেল, অথবা ‘জ্যোৎস্না রাতের পাখি’ লাইনটাকে আর কতোভাবে টুইস্ট করা যাবে?—‘পাখি রাতের জ্যোৎস্না’ কিংবা ‘রাতের জ্যোৎস্নাপাখি’, ‘রাতের পাখি—জ্যোৎস্না’; থ্রিলটা এখানেই, এখানেই ডাডা—রক্তদানের পোস্টারে লেখা ‘দু-ফোঁটা রক্ত’ তার পাশের পোস্টার ‘সেল ৫০%’ তার পাশের পোস্টার ‘যৌনসমস্যা শীঘ্রপতন’, তার পাশের ‘এসে গেছে আপনার শহরে’
‘এসে গেছে আপনার শহরে
যৌনসমস্যা
দু-ফোঁটা রক্ত—শীঘ্রপতন
(অতএব) সেল ৫০%’
এমনই ড্র্যাগ করে শব্দগুলোকে এলোমেলো করা, শব্দের পিন খুলে দিলেই বিস্ফোরণ, যদিও অনেকটা কনফিউশন, শব্দের পাশে পাশে একটা করে ক্রস সাইন, একটা আগাম লাইন দেওয়া আছে—
“আমার শিরা-উপশিরা মানচিত্রের মতোই
ভেঙেচুরে রেখেছে এই শরীর”
ফালতু লাইন; এর থেকে মাচ বেটার আপনি লিখে দিতে পারবেন, ঠাপ ঠাপ করে ক্রসে টিপে টিপে সবকটাকে ডিলিট করুন, এরপর ‘নতুন শব্দ কিংবা বাক্যের সংযুক্তি’ তার নীচে শাদা টেক্সট বক্স সেখানে প্রেস করে টাইপ করুন নতুন শব্দ বা লাইন, ধরুন লিখছি—
‘শব্দ করেই’—এর পর ‘অ্যাড’ করুন।
তারপর আবার আরেকটা শব্দ ‘জিভের চাবুক’—আবার অ্যাড
তারপর আবার আরেকটা ‘জড়াবো তোমার গায়ে’—আবার অ্যাড
একটা ‘নেক্সট লাইন’ টিপে ‘এন্টার’ আনলাম পাজ্যেলে
এইবার তিনটে শব্দবন্ধ; আরেকটা এন্টার;
আঙুল দিয়ে ঘষে এন্টারটাকে টেনে নিয়ে গেলাম ‘জিভের চাবুক’-এর পাশে; কী হলো ব্যাপারটা নিচে ইয়োলো লাইভ কবিতায় আসলে দেখা যাচ্ছে—
“শব্দ করেই জিভের চাবুক
জড়াবো তোমার গায়ে”
আসলে শব্দ করাটাই এখানে থ্রিল, জিভের চাবুকটা নয়, ওটা শেষে থাকলেই মনে হচ্ছে জিভের শব্দটা শুনতে পাবো; আরও এক্সপ্রেসিভ হবে ব্যাপারটা, যেমনটা বাজের শব্দে ভয় পেয়ে যাই, কিন্তু আলো দেখলে মনোরম শাখা প্রশাখা গুনি— তাহলে ‘শব্দ করেই’ টেনে একবারে শেষে আনি, আরেকটা ‘নেক্সট লাইন’ দরকার, আরেকটা ‘এন্টার’ এনে ‘জড়াবো তোমার গায়ে’-র পাশে ফেলে দিই; এই বেস্ট:
“জিভের চাবুক
জড়াবো তোমার গায়ে
শব্দ করেই”
কবিতার আর কতো সম্ভাবনা খোলা যেতে পারে; শব্দকে ফাঁক করে যতোদূর অন্ধকার ছুঁতে পারা যায়! বিষয়টা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে, মেড ইজি চাই, উলোট পালোট শব্দ মজ্জা মাংস, হাত পায়ের জায়গায় আর পা হাতের জায়গায়, আর মাথা হাঁটুর জায়গায়, সেখানেও আমি মানুষ। এবার জড়ো করবো সমস্ত থুৎকার, কিংবা একটা মুঠোহাত থেকে যেভাবে আঙুলগুলোকে আলাদা করতে হয়, অতএব এইটাই ম্যানুয়াল; আঙুলে টেনে টেনে দেখতেই হবে শব্দগুলোর ভেতর কতো গলিঘুঁজির রাস্তা, কতোগুলো জানালা, আর জানালা থেকে যৌনদৃষ্টি।
“তোমার ছায়াগুলো পাথরের মতো নরম।
কিছু না বলে, এই যে চুপ করে আছো, এখানেই দীর্ঘ অনুতাপ।
ভীষণ নগ্নতায়, তবু তোমার আঙুল ছুঁতে ভয় পাই।”
এইবার তিনটে লাইন ঠুসে দিলাম; এইবার শুধু ক্ষীপ্র মন্তাজের প্রয়োজন; প্রথমে মাঝে আর পেছনে, দুটো নেক্সট লাইন ইনপুট করে প্রথম আর সেকেন্ড লাইনের পরে—‘ভীষণ নগ্নতায়...” এভাবেই ইন্ট্রোডিউজ হতে পারে ভালোবাসার এই দাঁতছাপের উজ্জ্বলতা,—নাইস, দ্যেন তোমার শরীরী অভিব্যাক্তি, ছায়াগুলোও যে-মতো কার্ভ, একটা পাথরের জ্যা ততোধিক নরম, এরপরেই হাইকুর সেই চূড়ান্ত শেষ স্ট্রোক, থ্রি-লাইনার বিমূর্ততা, তোমার অভিমানের গলগলে আঁচ ও এখানে আমার বিকলাঙ্গতা; কিছুই করতে পারছি না যেন, নিরুপায় গাঢ় আগুনের পাশে, তাহলে সাইজ করার পর তিনটে লাইন কী দাঁড়ালো?—
“ভীষণ নগ্নতায়, তবু তোমার আঙুল ছুঁতে ভয় পাই।
তোমার ছায়াগুলো পাথরের মতো নরম।
কিছু না বলে, এই যে চুপ করে আছো, এখানেই দীর্ঘ অনুতাপ।”
শব্দের, বাক্যের কোন্ কন্ট্রাস্ট নিজের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে রেজোনেট করবে, কোথায় চিৎকারে শব্দের দাঁত শরীরে গেঁথে যাবে, এখানেই স্যাটিস্ফেকশন; এটা র্যাপিডলি ফিল করতে হবে ডাইনামিক মেডিটেশনের মতো: দামড়া মানুষ শিশুর মতো অঝোরে যেভাবে কেঁদে ফ্যালে, দাঁতের কপাটি খুলে যেভাবে ফিকফিক হাসে; আরও অনন্ত ভাঙার, আরও অনন্ত জোড়ার, চিৎকারজন্ম, একটা খাবার মুখে তুলে নিয়ে জিভের যতোটা ডিস্ট্রিবিউশন; শব্দে শব্দে আরও আত্মখোঁজ, আত্ম-তদন্ত, গোয়েন্দার পিনবোর্ড—
ভুলবশত কোনো ওয়ার্ড ডিলিট বা ভুল জায়গায় মুভ হলে, লাইভ কবিতার ওপরে আনডু বাটান আছে, ভুল শুধরে নেওয়ার রিভার্স; ট্রাই ইওর বেস্ট, শব্দ শব্দ ধূ-ধূ কাতরানি কুঁকড়ে মুচরে আলোচ্য এযাবৎ শীৎকার অথবা ঝুলে থাকা আলজিভ যেরূপ প্রশ্নবোধক; ডিকশিনারি কোলাপ্স করে দিন—
এই সাবমিট করলেই মেইল মারফত পাঠাতে পারবেন অথবা পাশের কপি অপশনে কপি করে সংরক্ষণ করুন, মনে রাখবেন, ভাষা আপনার অল্টার সেল্ফ।