একটি অলৌকিক আত্মহত্যা
ও
আলফাল কিছু কথা
সৌমাল্য চ্যাটার্জি
[১]
সারা সকাল ট্রেড ইউনিয়নের নেতার বাগানবাড়িতে বসিয়ে রেখেছিল আমাকে। হাতেপায়ে ধরে একটা ব্ল্যাক লেবেল ভিক্ষে করে এনেছি। সেটা নিয়ে এরা কি করছে দেখো! প্রথমে একজন চুমু খেল (যেন বোতলটা বিশ্বকাপ), তারপর একজনের ওপর গুরুদায়িত্বটা পড়ল সবাইকে সমানভাবে ভেতরের মালটা ভাগ করে দেওয়ার। কাজটা নাজুক। একটু এদিক ওদিক হলেই কিচায়েন, কিচায়েন থেকে হাতাহাতি। একজন (বিশেষ নেতার বিশেষ লবির লোক) ঠোঁটে একটা কিং সাইজ সিগারেট ধরিয়ে আমাকে বলল “চুঙ্কু একটা কবিতা ছাড়!” ফরমাশ মতো কেউ কবিতা লিখতে বা শোনাতে বললে শালার মুখে জুতো মারতে ইচ্ছে করে। কিন্তু এক্ষেত্রে উপায় নেই। দাদা এখন মাল খেয়ে ফুল ফর্মে! কবিতা না ছাড়লে কিচায়েন বাড়বে, কিচায়েন থেকে হাতাহাতি হবে, হাতাহাতি থেকে রক্তারক্তি। ভুল করে খালাসও করে দিতে পারে। খালাস করে দিলে আমার জায়গা হবে বিশিষ্ট প্রাবন্ধিকের “কবি ও বধ্যভূমি”র ধারাবাহিক সিরিজে। গলা ফলা ঝেড়ে কবিতা একটা ছাড়লাম। “অন্তত আমি হাতে গুনে বলতে পারব না/ ওই একই মানুষের সঙ্গে কতবার মুখোমুখি হয়েছি/ সেদিন অব্দিও লোকটি বামপন্থী ছিল/ আজ ভোট দেয় না …” চারলাইন বলতেই থামিয়ে দিল সবাই। ঠেকের সবচেয়ে বর্ষীয়ান ও তাত্ত্বিক সদস্য কাচের গেলাসটা ঠোঁটের কাছে নিয়ে এসে বললেন, “এই দালালটার কবিতা পড়ছিস কেন?” ছায়ার সঙ্গে মিশে থাকা কেউ একটা জিজ্ঞেস করল, “কোন দালাল?” উত্তর এলো, “ওই দমদম পার্কের রেনেগেডটা।” আমার নেশার ঘোরের ওপরে কেউ যেন একটা চাবুক চালিয়ে দিল। কবি অরিন রায়ের সঙ্গে আমার মেলামেশা আছে এটা মাল খেয়ে ফাঁস করে ফেলেছি! ঘোরের মধ্যেই দেখতে পেলাম সম্মেলনের মঞ্চে আমার হাইয়ার কমিটিতে নির্বাচিত হওয়ার প্রস্তাবের ওপরে দুটো রাক্ষস পেচ্ছাপ করে দিচ্ছে।
কাল সারারাত খিস্তিখাস্তা শুনেছি। বর্ষীয়ান দাদার তির্যক সমালোচনাও শুনেছি। তারপরে হাফ নেশায়, হাফ আফসোসে ঠেকের এক পাশে রাখা বাঁশের বেদীতেই ঘুমিয়ে পড়েছি। মোরগের চিলচিৎকারে ঘুম ভেঙে গেছে সাত সকালে। কি করব বুঝে উঠতে পারছি না। হাঁটা লাগালাম রাসবিহারীর দিকে। লেক মার্কেটের কাছে অরিন রায়ের সঙ্গে দেখা। ট্রেড ইউনিয়নের লোকজন মনে করে আমি আর অরিন রায় দুটো আলাদা মানুষ। আমি মনে করি আমরা দুজন একই মানুষ। আমি যে কথাগুলো বলতে চাই কিন্তু বলতে পারি না, অরিন রায় সেই কথাগুলোই অক্লেশে বলে। আমি যে কবিতা লিখতে চেয়েও লিখতে পারি না, অরিন সেই কবিতাগুলোই লেখে। আজ দেখা হতেই বাজারের থলি হাতে এগিয়ে এসে বলল, “কি হলো? কবিতা কোথায়?” বললাম, “লিখতে পারছি না। চাইলে দুটো স্প্যানিশ কবিতা অনুবাদ করে দিতে পারি।” শুনে কবি বলল, “ভাই, তুমি তো জানো, স্প্যানিশ ভাষাটাকে আমি যতটা ভালোবাসি, অনুবাদের প্রক্রিয়াটাকে ততটাই ঘৃণা করি। আমার কাগজে আজ পর্যন্ত অনুবাদকে জায়গা দিইনি। তুমি এমন কোন বড় মাতব্বর নও যে তোমার জন্যে সে কাজ আমাকে শুরু করতে হবে। মৌলিক কবিতা লেখো সাতদিনের মধ্যে। আর নিজের দিকে একটু তাকাও। ঢ্যামনাগুলোর সঙ্গে থাকতে থাকতে তো শেষ হয়ে যাচ্ছ। সাম্যবাদ আনতে গেছিলে, সেই জায়গায় ব্রাম্হণ্যবাদ নিয়ে এসেছ তোমরা। রোজরোজ মাল টানছো। ইউনিয়ন তোমাকে পচিয়ে দিচ্ছে। পচলে পচো, ক্ষতি নেই। না পচলে লেখালিখিতে ধার হবে না। কিন্তু পচনটা তোমার নিজের হওয়া চাই। অন্য কেউ এসে তোমাকে পচিয়ে দেবে কেন?” এই বলে কবি মেট্রো স্টেশনে ঢুকে পড়লেন। আর সেদিন দুপুরেই স্থানীয় লম্বু সুদখোরকে দু ছিলিম খাইয়ে দশ হাজার টাকার টুপি পরিয়ে আমি কোন এক দূর মফঃস্বলে চলে এলাম। শালা লম্বু অনেক কামিয়েছিস!
[২]
এক মাস হল মফঃস্বলে এসে গুছিয়ে বসেছি। মফঃস্বল তো মফঃস্বলই। সাদামাটা জীবন। বিশেষ বেলেল্লাপনা করার সুযোগ পাইনা। একটা বিড়ি কারখানায় ম্যানেজারির চাকরি নিয়েছি। সারা সকাল বিড়ি বাঁধা দেখি, সারা রাত বিড়ি ফুঁকি। কারখানায় কাজ বিশেষ নেই। সকালবেলাটা হিসেব-নিকেশ সেরে বইপত্র পড়ি আর আশেপাশে কে কি আলফাল বকছে সেসব শুনি। দুপুর হলে ভাড়াবাড়িতে ফিরে যাই। এক কামরার ঘর। দেওয়ালগুলোর রঙ সব মায়ের ভোগে গেছে। পুরোটাই চিটে থাকা তেল, ঝুল আর মাকড়শাদের মুক্তাঞ্চল। একদিন বিছানায় বসে দেওয়ালে হেলান দিয়ে ঢুলছি আর মাথার মধ্যে ফাটতে থাকা অজস্র মানুষের আলপটকা অভিযোগগুলো শুনছি। একটা অভিযোগের সাথে আরেকটাকে গেঁথে একটা সমষ্টিগত অভিযোগের চেহারা তৈরী করার চেষ্টা করছি এমন সময় একটা মাকড়শা কি মাকড়শার বাচ্চা কানে ঢুকে গেল। আধঘণ্টা লাফালাফি, ধ্বস্তাধস্তি করার পরে শুওরের বাচ্চাটাকে কোনভাবে বের করে হাতের তালুতে ফেলে মারতে যাব কি মায়া হল। আধঘণ্টার জন্যে হলেও তো মালটা মুক্তি দিয়েছিল মাথার ভেতরে অনবরত চলতে থাকা তোলপাড়গুলোর থেকে। আধঘণ্টার জন্যে হলেও সেই মুখগুলো মনে পড়েনি যে মুখগুলো আমাকে ঘুমোতে দেয়না। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলাম মাকড়শাটাকে।
যত দিন যাচ্ছে বুঝতে পারছি এখানে আসাটা ভুল হয়েছে। আগে সারাদিন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। ইউনিওনিয়ের মালগুলোর ক্যাওড়ামি, লুচ্চামির চক্করে ভেতরের আওয়াজগুলোকে পাত্তা দিতাম না। বুঝতে পারিনি ভেতরে ভেতরে একটা বারুদের পাহাড় জমছে। এই মফঃস্বলের বাহ্যিক শান্তি বদমায়সি করে ভেতরের বারুদের পেছনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এখন সারাদিন মাথার মধ্যে বিস্ফোরণ। এক মিনিটও শান্তি পাইনা। ভেতরের আওয়াজগুলো শালা এভাবে আত্মা-সত্তা-মন সব দখল করে নেবে জানলে এখানে আসতামই না। দুপুর হলে বাড়ি ফিরতে না ফিরতে শুরু হয়ে যায়, “দু পয়সা রোজগার কর রে এবার তোমার সঙ্গে দেখা করার কোন ইচ্ছে নেই তুই আর এখানে আসিস না নিজের দিকে তাকাও আয়নায় দেখো নিজেকে ধ্যার শালা পয়সা না ফেলেই খালি তামাশা দেখার ইচ্ছে আপনার প্রেশারটা বেড়েছে কি নিয়ে ভাবছেন এতো তুমি কেন আমার পেছনে পড়ে আছো রাতে ঘুম না এলে এই ওষুধটা একটা করে খাবেন খালি নিজেরটা নিয়ে ভাবো আমার কথাটা ভেবে দেখেছ কখনও পঁচিশ তারিখের মধ্যে টাকাটা জমা করতে না পারলে এই বছর আর অ্যাডমিশন হবে না বড় আঁতেল তুমি হারামজাদা নিজের চরকায় তেল দাও পঁচিশ তারিখ লাস্ট ডেট আর কোনদিন আমাদের দেখা হবে না একটা লিপিড প্রোফাইল করিয়ে নিন আঁতলামি না করে ভোটটা তুলতে শেখ লাস্ট ডেট পেরিয়ে গেছে পরের বছর আসবেন চাকরি-বাকরি পেলি না এখনও ব্লাড সুগারটাও করিয়ে নেবেন তোমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ব একটা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টও করিয়ে নেবেন শালা শরীরে কিসের রক্ত আছে বে তোর কেন যোগাযোগ রাখব তোমার মত একটা আবর্জনার সঙ্গে মাথা ঘুরলে কি ব্ল্যাক আউট হয়ে যায় ব্ল্যাক আউট হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে যায় হয়ে ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট ব্ল্যাক আউট …” ওঃ! চুপ কর শালা!
সারারাত মাথার মধ্যে কথাগুলো দৌড়াদৌড়ি করে। একটু চোখ বুজলেই একাগাদা মুখ ছুটে আসে আমার দিকে। বিছানা থেকে উঠে দরজা হাট করে খুলে সামনের পুকুরটার দিকে ছুটে যাই। ডুব দিতে পারি না। ভয় করে। সাঁতার জানি না। চুপ করে পাড়ে বসে বিড়ি ধরাই। চোখ বড় বড় করে জলের দিকে তাকিয়ে থাকি। একটু পরে জলেও ভেসে ওঠে মুখগুলো। চিৎকার করে হাতের কাছে যা পাই পাথর, ভাঙা ইঁটের টুকরো জলের দিকে ছুঁড়ে মারি। তরঙ্গ সৃষ্টি হলে মুখগুলো ভেঙে চারপাশে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে যায়, পরক্ষনেই আবার ফিরে মাঝ বরাবর এসে জোড়া লেগে যায়। শালা রক্তবীজের বাচ্চা!
যত দিন যাচ্ছে দুর্বল হয়ে পড়ছি। সারারাত কেউ রক্ত চুষে নিচ্ছে আমার শরীর থেকে। গোটা দিন টেবিলে বসে ঢুলতে থাকি। কারখানার শ্রমিকরা মুখ দেখে ভয় পেয়ে যায়। বলে, “দাদা কি হয়েছে খাওয়াদাওয়া করেছেন না নাকি বাবু ওই বাড়িটা ভালো না চোখে কালি পড়ে গেছে তো আপনার রাতে পুকুরের ধারে ঘোরাঘুরি করেন কেন ভাল উচ্ছে দিয়ে যাব খাবেন রক্ত হবে ওই বাড়ীটা ছেড়ে দিন বাবু রাতে একা একা ঘুরবেন না নজরটজর লাগল নাকি কদিন দেশের বাড়ি থেকে ঘুরে আসুন এবাবা আপনার চোখটা এত লাল হলো কি করে এখানে ভালো ওঝা আছে একা একা রান্না করতে অসুবিধে হচ্ছে আপনার ওই বাড়ি কেউ ভাড়া নেয় আপনি রাতে পুকুরপাড়ে বসবেন না আর ঠিক করে খাওয়াদাওয়া করুন একটু গঙ্গাজল ছিটিয়ে নেবেন ঘরের চারকোণায় পুকুরে কি না কি আছে কেন বেকার বেকার ওদিকটায় যান রাত্রেবেলায় কি হল দাদা মাথা ঘুরছে দাদা কি হল মাথা ঘুরছে নাকি দাদা দাদা দাদা দাদা দাদা দাদা দাদা মাথা ঘুরছে মাথা ঘুরছে মাথা ঘুরছে মাথা ঘুরছে মাথা ঘুরছে মাথা ঘুরছে?????????????????????????????”
[৩]
এক মাস বিছানায় কেলিয়ে পড়েছিলাম। এক মাস শুধু ঘুমিয়েছি। কি দিন কি রাত! শরীর খুউব দুর্বল। চোখ টেনে নামালে ভেতরটা সাদাসাদা দেখায়। আঙুলের ডগা টিপলেও সাদাসাদা। এই এক মাস মাথার মধ্যে কথার ছুটোছুটি কমেছে। শালারা জাত হারামী! একবারে চেপে ধরে শেষ করে দিচ্ছে না। তিলে তিলে মারছে।
এই এক মাস কারখানায় আমার আন্ডারে কাজ করে যে অ্যাসিস্ট্যান্টটি, তার স্ত্রী তিনবেলা খাবার পৌঁছে দিয়ে গেছে। রাতে খাবার দেওয়ার পরে মশা তাড়ানোর জন্যে ডিমের খোলা বিছানা থেকে একটু দূরে রেখে জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে। জ্বর হলে মাথায় ঠাণ্ডা পট্টি দিয়ে গেছে। মাঝেমাঝে হাত, বুক, পিঠ ধরে উঠিয়ে বসিয়েছে। কেমন বোধ করছি বারেবারে জিজ্ঞেস করেছে। চোখে চোখ পড়তেই চোখ বারবার নামিয়ে নিয়েছে। আমি একটু সুস্থ হয়ে ওঠার পরে একদিন ডেকে বলি আর খাবার দিতে হবে না। অনেক সেবা করলে। কথাটা শুনেই রেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
জলটা কোনদিকে গড়াচ্ছে ঠাওর করতে পারছি না। আজ রাতে যখন সে খাবার দিতে এল তখন জিজ্ঞেস করলাম “তুমি কেন রোজরোজ আসছ? অনেক তো করলে। আমি এবার নিজেই পারব সব করে নিতে।” কথাটা শুনে সোজা চোখের দিকে তাকিয়ে সে বলল, “কেন আসি বুঝতে পারো না?” মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল নাকি শালা ঘরের ছাদটাই ভেঙে পড়ল বুঝতে পারলাম না। শালা সর্বত্রই নেশা! যেখানে মদ নেই, সেখানে মাংস। এক নেশার থেকে পালিয়ে এলাম, আরেক নেশায় ঢুকে পড়লাম। মাথাটা ভারী হয়ে এল। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাকে আর স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি না কেবল দেখছি সে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। খুব কাছাকাছি সে যখন এসে পড়েছে তখন এক মুহূর্তের জন্যে তার চোখ-নাক-ঠোঁট সব যেন ঝলসে উঠলো। মুখের মাংস গলে খসে পড়ে গিয়ে আরেকটা নতুন মুখ গজিয়ে উঠল। এই মুখ আমার চেনা, এই মুখ আমার জানা। এই মুখকে শেষবার গড়িয়াহাটের ব্রিজের তলায় দেখেছি তিন বছর আগে। মাথার মধ্যে আবার সঙ্গেসঙ্গে শুরু হল কথার চরকি ঘোরা, “কি চাও তুমি আমাকে একা ছেড়ে দাও কেন আমাকে জোর করে থাকতে বলছ তোমার কোন আত্মসম্মান বোধ নেই দূরে চলে যাও তোমার মুখ দেখলেই রাগ লাগে বাঁচলে না মরলে তাতে আমার কি যা ইচ্ছে করো আমাকে বিরক্ত করো না আর তোমার যাবতীয় ব্যার্থতার দায় আমার নয় কি করলে পিছু ছাড়বে বলো এই বয়সে এক পয়সা রোজগার না করে সারাদিন ঘুরে বেড়াতে লজ্জা লাগে না আগেই বলেছি তোমার সাথে আমার কোন কিছুই মেলে না কেন তোমাকে সব কথার কৈফিয়ৎ দিতে হবে নিজেকে কি মনে করো আর কোন যোগাযোগ থাকবে না আমাদের দূরে চলে যাও দূরে চলে যাও দূরে যাও দূরে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও চলে যাও দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে দূরে …” সামনে যা ছিল সব ঠেলে সরিয়ে দরজা খুলে ছুটে বেরিয়ে গেলাম। ক্রমশ পুকুরটা সামনে আসছে, জলের মধ্যে মুখগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাড়ের কাছেই পড়ে থাকা একটা শাবল নিয়ে সোজা ঝাঁপ দিলাম জলে। জল স্পর্শ করার আগে আর মাটি থেকে লাফ দেওয়ার পরে, জল আর শূন্যতার মধ্যে থেকে জলের মধ্যে ভাসতে থাকা মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে আমি চিৎকার করে বলেছিলাম “মুক্তি দে রে বাঞ্চোৎ!” সেই থেকে চারটি শব্দ জলের ওপরে ভাসছে। সেই থেকে পুকুরটি পরিত্যাক্ত। আমি শুধু মাঝেমাঝে এসে দেখে যাই ভাসতে থাকা শব্দগুলোকে।
[গল্পটি আড়াইঘর ম্যাগাজিনে প্রকাশিত]